Rajakiya Prem Katha PDF – Chitra Deb – রাজকীয় প্রেমকথা

Rajakiya Prem Katha PDF  – আমদের এখান থেকে লেখক চিত্রা দেব এর লেখা রাজকীয় প্রেমকথা পিডিএফ বই Download করে নিতে পারবেন সহজে। নিচেই বইটির ডাউনলোড লিংক পাবেন।

Rajakiya Prem Katha PDF সম্পর্কে আরোও কিছু তথ্যঃ

বইয়ের নাম রাজকীয় প্রেমকথা
লেখকের নাম চিত্রা দেব
উইকিপিডিয়ায় লেখক সম্পর্কে
টাইপ পিডিএফ
ভাষা বাংলা
বইয়ের ধরণ ১৮+

Rajakiya Prem Katha PDF এর প্রথম কিছু লাইন – ১

পাগল করা রূপ নিয়েই তিনি জন্মেছিলেন। সবচেয়ে আশ্চর্য ছিল তার গায়ের রঙ। তিনি যখন পান খেতেন, দেখা যেত তার মর্মরশুভ্র কণ্ঠ বেয়ে একটি রক্তিম আভা নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে। বলা বাহুল্য রূপের অগ্নিশিখা চারদেয়ালের আড়ালে লুকিয়ে থাকার নয়।

মনীও নৃত্যগীতের তালিম নিতে নিতে হাজির হলেন বুন্দেলা ছত্রশালের নাচমহলে। কাঞ্চনমুল্যে কেনা বাঁদী, ছত্রশাল অতি সহজেই তাকে উপহার দিতে পারলেন বন্ধুকে। রূপের সমঝদার তিনিও। কিন্তু বাজীরাওয়ের মতাে মােহাবিষ্ট হননি তিনি। মস্তানীর মতামত নেবার কথা তার মনেও আসেনি। 

স্বচ্ছ চান্দেরি মসলিনের অবগুণ্ঠনের আড়ালে আবার মস্তানীকে দেখে এক অনাস্বাদিত পুলকে কেঁপে উঠলেন বাজীরাও। অবশ্য কয়েক মুহূর্ত পরেই নিজেকে দমন করে শান্ত কণ্ঠে বললেন, ‘মস্তানী, আমি বন্ধু ছত্রশালের কাছে প্রার্থনা জানিয়ে ছিলাম, তােমাকে একবার দেখতে চাই। তিনি সৌজন্যবশত উপহার হিসাবে তােমাকে আমার হাতে তুলে দিয়েছেন।

আমি ধন্য! কিন্তু আমি তােমার ওপর কোন অধিকার আরােপ করতে চাই না। আমি বিশ্বাস করি না, কাঞ্চনমূল্যে তােমার মতাে নারীকে কেনা যায়, ইচ্ছে হলে বিলিয়ে দেওয়া যায়। সমতু ঘটনাটা আমাকে ব্যথিত করেছে। তুমি স্বাধীন। ইচ্ছে করলেই যেখানে খুশি যেতে পার। ছত্রশালের রাওলায় থাকতে পার। আমার সঙ্গে পুনা যেতে পার। বল তুমি কি চাও?’

মস্তানী স্তব্ধ হয়ে শুনছিলেন। এমন কথা তিনি তার সতের বছরের জীবনে কোনদিন শােনেননি। জ্ঞান হয়ে অবধি জেনে এসেছেন, তার ইচ্ছের কোন দাম নেই। আজ শুনলেন নতুন কথা। আনত চোখ দুটি তুলে তাকালেন বাজীরাওয়ের দিকে। কৃশকায় মানুষটি। রাজপুত কিংবা মুসলিম শাসকদের মতাে সুপুরুষ নন। কিন্তু চোখ। দুটি আশ্চর্য স্বপ্নময়।

মস্তানী মুহূর্তের মধ্যে ভালােবেসে ফেললেন বাজীরাওকে। রূপবান নন তবুও মস্তানী তাকে দেখলেন প্রেমিকার চোখ দিয়ে। মহতের সৌন্দর্যও কম নয়। সামান্য নর্তকীকে এত সম্মান কে দেয়? তাই উত্তর দিতে একটুও ভাবতে হল না মস্তানীকে। পুনরায় তসলিম জানিয়ে মধুর কণ্ঠে বললেন, ‘আমি আপনার আশ্রয়ে থাকতে পারলে নিজেকে ধন্য মনে করব মালিক।

Rajakiya Prem Katha PDF এর প্রথম কিছু লাইন – ২

বাজীরাওয়ের খুব ভালাে লাগল মস্তানীর উত্তর। তিনি তাে মস্তানীকে দেখেই ভালােবেসে ফেলেছেন। এমন পাগল করা রূপ। সেই সঙ্গেই বুঝেছিলেন, জোর করে একে হয়ত অধিকার করা যায়, ভালােবাসা পাওয়া যায় না। আর ভালােবাসা না। থাকলে এক নারীর সঙ্গে অন্য নারীর তফাত কি? তাই, যাকে দেখে তার মনে হয়েছিল, একে না পেলে আমার জীবন ব্যর্থ হয়ে যাবে। তাকেও জোর খাটিয়ে ধরে রাখতে চাইলেন না, বরং পায়ের শিকল খুলে দিলেন।

উড়ে যাবার অভিপ্রায় মানীর ছিল না। কারাের না কারাের আশ্রয়ে তাে থাকতে হবেই, বীরশ্রেষ্ঠ বাজীরাও তাকে দিয়েছেন দুর্লভ সম্মান, মুক্তির স্বাদ। এই তাে যথেষ্ট। ভালােবাসার অধিকার নেই কাঞ্চনীদের। মত্তানীর ভাগ্য ভালাে, তার প্রভুই তার প্রিয়তম।।  বাজীরাও হেসে বললেন, ‘আমরা মহারাষ্ট্রের লােক। বিলাসের মধ্যে বাস করি না। তােমার হয়ত কষ্ট হবে।

মস্তানী মদির কণ্ঠে উত্তর দিলেন, ‘আমার মালিক আমাকে যেখানে রাখবেন সেখানেই আমি পরম সুখে থাকব।’

সুখে রােমাঞ্চিত হলেন বাজীরাও, ‘এ কী তােমার মনের কথা ?” ‘এতদিন তাে মনের কথা মুখে আনবার সুযোেগ পাইনি। তাই কি চাই কোনদিন ভাবিওনি। আজই প্রথম নিজের ইচ্ছা প্রকাশের সুযােগ পেলাম। ‘তােমার রূপের মতাে তােমার কথাও মাদকতাপূর্ণ। ‘তাহলে আমাকে পুরস্কার দিন।’ হেসে বললেন মস্তানী। 

‘কী পুরস্কার দেব তােমাকে?’ ব্যক্ত হয়ে উঠলেন বাজীরাও, কি দিতে পারেন তিনি? কি দেবেন এই অপূর্ব সুন্দরী মেয়েটিকে? মােতির মালা? হিরের আংটি ? সবই ততা ওর রূপের বিভায় স্নান। | বাজীরাওয়ের বিড়ম্বিত মুখ দেখে আর একবার হেসে ফেললেন মস্তানী, কাঞ্চনীজীবনের সব নিয়ম ভুলে গিয়ে।

Rajakiya Prem Katha PDF এর প্রথম কিছু লাইন – ৩

এখন তিনি যেসব কথা বলছেন, সেগুলি তার তালিমে ছিল না। তিনি কোনদিন কল্পনাও করেননি, তার প্রভু হবেন এমন একজন পুরুষ, যিনি তাকে দেখবেন প্রেমের প্রদীপ জ্বেলে। সবই তাে হিসাবের বাইরে তবে আর একটু বেহিসাবি হলে ক্ষতি কী? বাজীরাওয়ের মনের কথা তিনি বুঝতে পেরে বললেন, ‘আমি হিরে মােতি কিছু চাই না।’ 

বাজীরাও লজ্জিত হয়ে ভাবলেন, মস্তানী ভাবছেন হিরে-মােতির গয়না দেবার ভয়ে তিনি কাতর। হায়, মস্তানী যদি তাকে বুঝতে পারত। তিনি যে তার সর্বস্ব ওকে দিয়ে দিতে রাজি। বললেন, “আমি ভাবছিলাম এমন কি দেব, যা তােমার কাছে দামি মনে হবে। হিরে-মােতির গয়নার চেয়েও তুমি উজ্জ্বল।

মস্তানী বললেন, “হিরে-মােতির গয়না থাক আমাদের রানিসাহেবার জননা। আমি গরিব। গয়না নিয়ে আমি করবই বা কী? আমি চাই আপনার একটু খুশি, একটু ভালােবাসা। আর কিছু নয়। সেই আমার সবচেয়ে বড় পুরস্কার।’

‘মস্তানী, তােমাকে দেখেই আমি ভালােবেসেছি। যতদিন বাঁচব, শুধু তােমাকেই ভালােবাসব।” ‘মালিক আর আমার কিছু দরকার নেই। “আমার আরও কিছু জানানাের আছে। ‘আজ্ঞা করুন।’ ‘আমরা হিন্দু রক্ষণশীল। সকলে হয়ত তােমাকে ভালােভাবে নেবে না।” ‘আমার তাে আর কাউকে দরকার নেই।

এর পরে আর কথা চলে না। বাজীরাও পুনা ফেরার তােড়জোড় শুরু করলেন। মুলা ও মুথা নদীর মাঝখানে পুনা। বাজীরাওয়ের প্রিয় শহর। শহরের প্রান্তে পাহাড়ি টিলা, এখন যেখানে পার্বতী মন্দির, তার কাছেই তৈরি হল একটি ছােট বাড়ি, মস্তানীর। জন্য। আবার এমনও হতে পারে, মস্তানী মহল তৈরি হয়েছিল পুনার মস্তানী মহল। নির্মাণের আগে কোঠারডে। পরবর্তীকালে দুটি মস্তানী মহলের খোঁজ পাওয়া গিয়াছে। | একটি বাজীরাও পরিকল্পিত শনিবার প্রাসাদের মধ্যে। অপরটি কোঠারডে। অনুমান করা।

রাজকীয় প্রেমকথা PDF Download

পাশের লিংকে ক্লিক করে ডাউনলোড করে নিন Rajakiya Prem Katha PDF বইটি।–> ❤️ডাউনলোড বই❤️

 

চিত্রা দেব এর PDF ডাউনলোড  করতে কোনো সমস্যা হলে কমেন্টে অবশ্যই জানাবেন। চিত্রা দেব এর অন্যান্য সকল বই বা অন্য কোনো বই ডাউনলোড করতে চাইলে আমাদের সাইটে প্রতিদিন ভিজিট করুন এবং যেকোনো সমস্যা বা নিয়মিত বইয়ের আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক এবং ফলো করে করে সাথে থাকুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Scroll to Top