Feluda Somogro 1 PDF Downlaod – ফেলুদা সমগ্র ১ PDF

Feluda somogro 1 pdf free download – ফেলুদা সমগ্র ১ pdf download – আমাদের এখান থেকে লেখক সত্যজিৎ রায় এর লেখা ফেলুদা সমগ্র এর ১ম পিডিএফ বইটি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। 

সর্বপ্রথম আনন্দ পাবলিশার্স থেকে প্রকাশিত ফেলুদার দুটি খন্ড। দুটি খন্ডের মধ্যে পুরো টোটাল ফেলুদার যতগুলো গল্প আছে, সব কটা আছে অর্থাৎ 35 টা সম্পূর্ণ গল্প আছে এবং চারটি অসমাপ্ত গল্পও আজকের পিডিএফ এ রয়েছে। অর্থাৎ যে চারটি গল্প সম্পর্কে সত্যজিৎ রায় লিখছিলেন কিন্তু তার লেখা শেষ হয়নি সেই গল্পগুলো তার আগেই সত্যজিৎ রায় মারা যান। সেই ৪টি গল্প এখানে দেয়া আছে। তবে আমরা দুটি পিডিএফ আলাদা আলাদা ভাবে দিয়েছি। এখানে অপর বইটির লিংক পেয়ে যাবেন। 

Feluda Somogro 1 PDF সম্পর্কে আরোও কিছু তথ্যঃ

বইয়ের নাম ফেলুদা সমগ্র ১
লেখকের নাম সত্যজিৎ রায়
উইকিপিডিয়ায় লেখক সম্পর্কে
টাইপ পিডিএফ
ভাষা বাংলা
বইয়ের ধরণ থ্রিলার
সমগ্র ফেলুদা সমগ্র

Feluda Somogro 1 PDF এর শেষের কিছু অংশ – ১

ফেলুদা সমগ্র ১ PDF

ফেলুদা এখন মহেশ চৌধুরীর ডায়রি নিয়ে বসবে, তাকে ডিসটার্ব না করাই ভাল, তাই আমরা দু জনে চারটে নাগাদ চা খেয়ে একটু ঘুরব বলে গাড়িতে করে বেরিয়ে পড়লাম। লালমােহনবাবুর ধারণা শহরের দিকে গেলে হয়তাে সুলতানের লেটেস্ট খবর পাওয়া যেতে পারে। মহেশ চৌধুরীর মৃত্যুর ব্যাপারে তােমার দাদা যতই রহস্যের গন্ধ পেয়ে থাকুন না কেন, আমার কাছে বাঘ পালানাের ঘটনাটা অনেক বেশি রােমাঞ্চকর।’

বাঘের খবর পেতে বেশি দূর যেতে হল না। পেট্রোল নেবার দরকার ছিল, মেন রােডে ব্রিজভূষণ তেওয়ারির পেট্রোল পাম্পের সামনে ভিড় দেখেই বুঝলাম বাঘের আলােচনা হচ্ছে, কারণ একজন ভদ্রলােক থাবা মারার ভঙ্গি করলেন কথা বলতে বলতে।।

লালমােহনবাবু গাড়ি থেকে নেমে সটান এগিয়ে গেলেন জটলার দিকে। ভদ্রলােক এককালে রাজস্থানে যাবেন বলে বই পড়ে কিছুটা হিন্দি শিখেছিলেন, কিন্তু এখন সেটা ফেলুদার ভাষায় আবার শেয়ালের স্ট্যান্ডার্ডে নেমে গেছে। তার মানে কেয়া হুয়া-র বেশি এগােনাে মুশকিল হয়। তবু ভাল, ভিড়ের মধ্যে একজন বাঙালি বেরিয়ে গেল। তার কাছেই জানলাম যে হাজারিবাগের পুবে বিষ্ণুগড়ের দিকে একটা বনের মধ্যে নাকি সুলতানকে পাওয়া গিয়েছিল। ট্রেনার চন্দ্রনের সঙ্গে বনবিভাগের শিকারি নাকি বাঘটার দিকে এগিয়ে যায়। একটা সময় মনে হয়েছিল যে বাঘটা ধরা দেবে, কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেটা চন্দ্রনকে একটা থাবা মেরে পালিয়ে যায়। গুলিও চলেছিল, কিন্তু বাঘটা জখম হয়েছে কি না জানা যায়নি। চন্দ্রন অবিশ্যি জখম হয়েছে, তবে তেমন গুরুতরভাবে নয়। সে এখন হাসপাতালে।

লালমােহনবাবু বললেন, ‘কান্ডারিকারের কোনও খবর জানেন ?

এটা শুধরাতেই হল। বললাম, ‘কান্ডারিকার নয়, কারান্ডিকার—যিনি বাঘের আসল ট্রেনার।’

ভদ্রলােক বললেন তার খবর জানেন না, তবে এটা জানেন যে বাঘের অভাবে নাকি সাকাসের বিক্রি কিছুটা কমেছে।

বাঘের দিকে গুলি চলেছে জেনে কারান্ডিকারের মনােভাব কী হল সেটা জানার জন্য ভীষণ কৌতুহল হচ্ছিল আমাদের দুজনেরই, তাই পেট্রোল নিয়ে সােজা চলে গেলাম গ্রেট ম্যাজেস্টিকে।

ফেলুদা সঙ্গে থাকলে দেখেছি লালমােহনবাবু নিজে থেকে আগ বাড়িয়ে কিছু করতে সাহস পান না। আজ দেখলাম সােজা গেটে গিয়ে বললেন, ‘পুট মি থু টু মিস্টার কুষ্টি প্লিজ।’ গেটের লােকটা কী বুঝল জানি না। হয়তাে সেদিন আমাদের চিনে রেখেছিল, তাই আর কিছু জিজ্ঞেস না করে আমাদের ঢুকতে দিল, আর আমরাও সােজা গিয়ে হাজির হলাম মিঃ কুট্টির ক্যারাভানে। কুট্টির কাছে যে খবরটা পেলাম সেটাকেও একটা হেঁয়ালি বলা চলে। কারান্ডিকার নাকি কাল রাত থেকে হাওয়া। ‘দু দিন থেকেই পাবলিক আবার বাঘের খেলা ডিমান্ড করতে শুরু করেছে,’ বললেন মিঃ কুটি। আমি নিজে কারান্ডিকারের কাছে গিয়ে ক্ষমা চেয়েছি। বলেছি সে ছাড়া আর কেউ বাঘ ট্রেন করবে না। কিন্তু তাও সে বলে চলে গেল। এর মধ্যেও দু-একদিন বেরিয়েছে, কিন্তু ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই আবার ফিরে এসেছে। কিন্তু আজ সে এখনও ফিরল না।’

Feluda Somogro 1 PDF এর শেষের কিছু অংশ – ২

খবরটা শুনে সাকসের বাইরে বেরিয়ে এসে লালমােহনবাবু বললেন, ‘সুলতান-ক্যাপচারের দৃশ্য আর দেখা হল না, তপেশ । এমন সুযােগ আর আসবে না।’ | আমারও মনটা খারাপ লাগছিল, তাই ঠিক করলাম গাড়িতে করে কোথাও একটু বেরিয়ে আসব। উত্তরে যাব না দক্ষিণে যাব—অর্থাৎ কানারি হিলের দিকে যাব না রামগড়ের দিকে যাব—সেটা ঠিক করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত টস্ করলাম। দক্ষিণ পড়ল। লালমােহনবাবু বললেন, ‘ওদিকটাতেও একটা পাহাড় আছে, সেদিন যাবার পথে দেখেছি। খাসা দৃশ্য।’

দৃশ্য ভাল ঠিকই, কিন্তু এগারাে কিলােমিটারের পােস্টটা পেরিয়ে কিছু দূর গিয়েই একটা কালভার্টের ধারে যে ঘটনাটা ঘটল, সেটাকে মােটেই ভাল বলা চলে না। | মাত্র দু মাস আগে কেনা লালমােহনবাবুর অ্যাম্বাসাডর বার তিনেক হেঁচকি তুলে মিনিট খানেক গাে স্লো করে অবশেষে বেমালুম ধর্মঘটের দিকে চলে গেল। বােধহয় তেল টানচে না,’ বললেন হরিপদবাবু। 

ঘড়িতে পাঁচটা কুড়ি। সূর্য আকাশের নীচের দিকে, কিন্তু দেখা যাচ্ছে না, কারণ পশ্চিমে দূরে শালবনের মাথার উপর মেঘ জমে আছে। | আমরা গাড়ি থেকে নেমে কালভার্টের উপর গিয়ে বসলাম, হরিপদবাবু গাড়ি নিয়ে পড়লেন। লালমােহনবাবুকে এ ব্যাপারে পুরােপুরি ড্রাইভারের উপর নির্ভর করতে হয়, কারণ উনি গাড়ি সম্বন্ধে কিছুই জানেন না। উনি বলেন, আমার নিজের পায়ের ভেতর কটা হাড় আছে কটা মাল আছে না জেনে যখন দিব্যি চলে ফিরে বেড়াচ্ছি, তখন গাড়ির ভেতর কী কলকজা আছে সেটা জানার কী নেসেসিটি ভাই ? | মেঘের গায়ে নীচের দিকে একটা খড়খড়ির মধ্যে দিয়ে একটিবার উঁকি দিয়ে সূর্যদেব যখন আজকের মতাে ছুটি নিলেন, হরিপদবাবু সেই সময় জানালেন যে তিনি রেডি—“চলে আসুন, স্যার।’

কালভার্ট থেকে উঠে আরেকবার ঘড়ির দিকে চেয়ে দেখি পাঁচটা তেত্রিশ। সময়টা জরুরি, কারণ ঠিক তখনই আমরা দেখলাম সুলতানকে।

খবরটা আরও অনেক নাটকীয়ভাবে দিতে পারতাম, কিন্তু ফেলুদা বলে এটাই ঠিক।—“গাদাগুচ্ছের মরচে-ধরা বিশেষণ আর তথাকথিত লােম-খাড়া করা শব্দ ব্যবহার না করে চোখে যা দেখলে সেইটে ঠিক ঠিক সােজাসুজি বলে গেলে কাজ দেবে ঢের বেশি।’ আমিও সেটাই করার চেষ্টা করছি।

খাঁচার বাইরে বাঘ এর আগেও একবার দেখেছি, যেটার কথা রয়েল বেঙ্গল রহস্যে আছে। কিন্তু সেখানে আমাদের সঙ্গে আরও অনেক লােক ছিল। শিকারি আর বন্দুক তাে ছিলই, সবচেয়ে বড় কথা—ফেলুদা ছিল। তার উপরে আমি আর লালমােহনবাবু ছিলাম গাছের উপর, বাঘের নাগালের বাইরে। এখানে আমরা তিনজন দাঁড়িয়ে আছি খােলা রাস্তায়, যার দু দিকে বন, অদুরে একটা পাহাড়, যাতে ভল্লুক আছেই, আর সময়টা সন্ধে।

Feluda Somogro 1 PDF এর শেষের কিছু অংশ – ৩

ফেলুদা সমগ্র ১ PDF

এই সময় এই অবস্থায় আমাদের থেকে হাত পঞ্চাশেক দূরে পশ্চিম দিকের বন থেকে বেরিয়ে বাঘটা রাস্তার উপর উঠল। আমরা তিনজনে ঠিক একসঙ্গে একই সময় বাঘটা দেখেছি, কারণ আমার সঙ্গে সঙ্গে অন্য দুজনও ঠিক সেই ভাবেই কাঠ হয়ে গেল। হরিপদবাবুর বাঁ হাতটা গাড়ির দরজার দিকে বাড়িয়ে ছিলেন, সেই বাড়ানােই রয়ে গেল । লালমােহনবাবু নাক ঝাড়বেন বলে ডান হাতের বুড়াে আঙুল আর তর্জনীটা নাকের দু পাশে ধরে শরীরটা একটু সামনের দিকে ঝুঁকিয়েছিলেন, তিনি সেই ভাবেই রয়ে গেলেন ; আমি ধুলাে ঝাড়বার জন্য আমার ডান হাতটা আমার জিনসের পিছন দিকে নিয়েছিলাম, তার ফলে শরীরটা একটু বেঁকে গিয়েছিল, বাঘটা দেখার ফলে শরীরটা সেইরকম বেঁকেই রইল।

রাস্তায় উঠে বাঘটা ঠিক চার পা গিয়ে থেমে গেল। তারপর মাথাটা ঘােরাল আমাদের দিকে।

আরো- Feluda Somogro 2 PDF Downlaod

আমার পা কাঁপতে শুরু করেছে, বুকের ভিতরে কে যেন হাতুড়ি পিটছে। অথচ আমার চোখ কিছুতেই বাঘের দিক থেকে সরছে না। সঙ্গে সঙ্গে এটাও বুঝতে পারছি যে আমার ডান পাশে আবছা কালাে জিনিসটা হচ্ছে লালমােহনবাবুর মাথা, আর সেটা ক্রমশ নীচের দিকে নেমে যাচ্ছে। আন্দাজে বুঝলাম তাঁর পা অবশ হয়ে যাবার ফলে শরীরের ভার আর বইতে পারছে না। এটাও বুঝতে পারছিলাম যে আমার দৃষ্টিতে কী জানি গণ্ডগােল হচ্ছে, কারণ বাঘের আউটলাইনটা বার বার ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে, আর গায়ের কালাে ডােরাগুলাে স্থির

থেকে ভাইব্রেট করছে।

সুলতান যে কতক্ষণ দাঁড়িয়ে আমাদের দেখল সেটার আন্দাজ দেওয়া মুশকিল। মনে। হচ্ছিল সময়টা অফুরন্ত। লালমােহনবাবু পরে বললেন কম করে আট-দশ মিনিট ; আমার মতে আট-দশ সেকেন্ড, কিন্তু সেটাও যথেষ্ট বেশি।

দেখা শেষ হলে পর মাথা ঘুরিয়ে নিয়ে আরও চার পা ফেলে বাঘ রাস্তা পেরিয়ে গেল। সাহস একটু বাড়াতে ধীরে ধীরে ডান দিকে মাথা ঘুরিয়ে দেখলাম শাল সেগুন সরল শিশু শিমুল আর আরও অনেক সব শুকনাে গাছের জঙ্গলে সুলতান অদৃশ্য হয়ে গেল।

আশ্চর্য এই যে, এর পরেও আমরা অন্তত মিনিটখানেক (লালমােহনবাবুর বর্ণনায় পনেরাে মিনিট) প্রায় একই ভাবে দাঁড়িয়ে রইলাম। তার পর তিন জনে কেবল তিনটে কথা বলে গাড়িতে উঠলাম—হরিপনবাবু ‘চলুন, আমি ‘আসুন আর লালমােহনবাবু ‘ছঃ’। খুব বেশি ভয় নিয়ে কথা বলতে গেলে লালমােহনবাবুর এ রকম হয় এটা আমি আগেই দেখেছি। ডুয়ার্সে মহীতােষ সিংহরায়ের বাড়িতে আমরা তিনজনে একঘরে শুয়েছিলাম। একদিন রাত্রে ঘরের বন্ধ দরজাটা হাওয়াতে খট খট করায় উনি ‘কে না বলে ‘খে বলেছিলেন। | হরিপদবাবুর নার্ভটা দেখলাম মােটামুটি ভাল। ফেরার পথে স্টিয়ারিং হুইলে হাত-টাত কাঁপেনি। উনি নাকি এর আগেও রাস্তায় বাঘ দেখেছেন, জামসেদপুরে ড্রাইভারি করার। সময়।

ফেলুদা সমগ্র ১ পিডিএফ Download Link

পাশের লিংকে ক্লিক করে ডাউনলোড করে নিন Feluda Somogro 1 PDF বইটি।–> ❤️ডাউনলোড বই❤️

 

সত্যজিৎ রায়ের এর ফেলুদা সমগ্র ১ PDF download করতে কোনো সমস্যা হলে কমেন্টে অবশ্যই জানাবেন। সত্যজিৎ রায়ের  আরো বই করতে চাইলে আমাদের সাইটে প্রতিদিন ভিজিট করুন এবং যেকোনো সমস্যা বা নিয়মিত বইয়ের আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক এবং ফলো করে করে সাথে থাকুন।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Scroll to Top