দরজার ওপাশে – Dorjar Opashe PDF – Humayun Ahmed | Himu Series 2

দরজার ওপাশে – Dorjar Opashe PDF – আমদের এখান থেকে লেখক হুমায়ূন আহমেদ (Humayun Ahmed) এর লেখা হিমু সিরিজের ২য় পিডিএফ বই দরজার ওপাশে pdf (dorjar opashe pdf) করে নিতে পারবেন সহজে। নিচেই বইটির ডাউনলোড লিংকটি পাবেন।

Dorjar Opashe PDF Book সম্পর্কে আরোও কিছু তথ্যঃ

বইয়ের নাম দরজার ওপাশে
লেখকের নাম হুমায়ূন আহমেদ
উইকিপিডিয়ায় লেখক সম্পর্কে
টাইপ পিডিএফ
ভাষা বাংলা
বইয়ের ধরণ উপন্যাস
সিরিজ হিমু সিরিজ

Dorjar Opashe PDF এর প্রথম কিছু অংশ – ১

আমি আপনাকে অনেক ব্যক্তিগত প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে ফেললাম। কিছু মনে করবেন

জিনা-‘। আমি কিছুই মনে করি নি। আমি খুব খুশি হয়েছি। অনেক দিন থেকে আপনার সাথে কথা বলতে চাচ্ছিলাম। সাহসে কুলায়নি।”

“আমাকে বলতে চাচ্ছিলেন কেন?”

“আপনি মহাপুরুষ ধরণের মানুষ। আপনি আমার মেয়েটার জন্যে একটু প্রার্থনা করলে তার মঙ্গল হবে, এই জন্যে। মেয়েটার বিয়ে দিতে পারছি না। দুষ্ট লােকজন আমার মেয়েটার নামে বাজে একটা দুর্নাম ছড়িয়েছে। পুরাে ব্যাপারটা যে মিথ্যা সবাই জানে, কেউ বিশ্বাস করে না, আবার সবাই বিশ্বাস করে। মেয়েটা খুব কষ্টে আছে ভাই সাহেব। আমি জানি, আপনি মেয়েটার কষ্ট কমাতে পারবেন। আমার মেয়েটা যে কত ভাল তা একমাত্র আমি জানি আর জানেন আল্লাহপাক। আপনার কাছে আমি হাতজোড় করছি।’ |

বায়ােজিদ সাহেব সত্যি সত্যি হাত জোড় করলেন। আমি বিব্রত গলায় বললাম – “ভাই, আপনি আমার হলুদ পাঞ্জামি, লম্বা দাড়িগোঁফ দেখে বিভ্রান্ত হয়েছেন। আপনার দোষ নেই, অনেকেই হয়। বিশ্বাস করুন, আমি মহাপুরুষ না। অতি সাধারণ মানুষ প্রচুর মিথ্যা কথা বলি, অনেক ধরণের ভড়ং করি। মানুষকে হকচকিয়ে দেয়ার একটা সচেতন চেষ্টা আমার মধ্যে থাকে। কাজকর্ম করার কোন ক্ষমতা নেই বলেই আমি ভবঘুরে। বুঝতে পারছেন?

বায়ােজিদ সাহেব আগের মতাে কোমল গলায় বললেন, ‘আপনি এক্ত দোয়া করবেন আমার মেয়েটার জন্যে। অনেকদিন বলার চেষ্টা করেছি। সাহস পাইনি। আজ আল্লাহপাক সুযােগ করে দিয়েছেন।

আমি হাসতে হাসতে বললাম, ঠিক আছে, প্রার্থনা করলাম। অসম্ভব রুপবান এবং ধনবান ছেলের সঙ্গে আপনার কন্যার বিয়ে হবে। তারা দুজনে মিলে ঘুরবে দেশ থেকে দেশান্তরে’।

আরো দেখুন – হিমু সিরিজের সকল বই

বায়েজিদ সাহেব ক্ষীণ গলায় বললেন, আপনার অসীম শুকরিয়া।

আমি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে মহাপুরুষদের মতেই গম্ভীর ভঙ্গিতে নিচে নেমে গেলাম। ভাল যন্ত্রনা হয়েছে। আমাকে অলৌকিক ক্ষমতাধর মনে করে এমন লােকের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে ।একটা আশ্রম টাশ্রম খুলে বসার সময় বােধহয় হয়ে এসেছে।

কমন বাথরুম নিচে। এত ভােরে কেউ উঠেনি। বাথরুম খালি পাওয়া যাবে। কল ছেড়ে কিছুক্ষণ মাথা পেতে বসে থাকব। তারপর পর পর তিন কাপ চা খেতে হবে। রাতে ঘুম না হওয়ায় মাথা জাম হয়ে আছে। চা খেয়ে রফিকের বাসায় একবার যেতে হবে। সে গত এক সপ্তাহ ধরে দুদিন পর পর আমার কাছে আসছে। কখনাে দেখা হচ্ছে না। সে এমন সময় আসে যখন আমি থাকি না। তার ব্যাপারটি কি, কে জানে?

বাথরুমের বেসিন অনেকদিন ধরেই ভাঙ্গা। আজ দেখি নতুন বেসিন। বেসিনের উপর নতুন আয়না। মেসের মালিক বসিরুদিন সাহেব খরচের চুড়ান্ত করেছেন বলে মনে হচ্ছে। বেসিনের কাছে না গিয়েও বলতে পারছি কোন রিজেকটেড বেসিন বসিরুদিন সাহেব কুড়িয়ে এনে ফিট করে দিয়েছেন। আয়নাটাও হবে ঢাকা শহরের সবচে সন্তা আয়না। মুখ দেখা যাওয়ার কোন কারণ নেই।

Dorjar Opashe PDF এর প্রথম কিছু অংশ – ২

আয়না দেখলেই আমার কাছে দাঁড়াতে ইচ্ছা করে। খুবই ক্ষুদ্র ইচ্ছা। এবং নির্দোষ ইচ্ছা। তবু অতি ক্ষুদ্র ইচ্ছাকে প্রশ্রয় দিতে নেই। একবার প্রশ্রয় দেয়া শুরু করলে সব ইচ্ছাকেই প্রশ্রয় দিতে মন চাইবে। “যে মানব সন্তান ক্ষুদ্র কামনা জয় করতে পারে সে বৃহৎ কামনাও জয় করতে পারে।” এই মহৎ বাণী আমার বাবার। চামড়ায় বাঁধানাে তিনশ একুশ পৃষ্টার একটা খাতায় তিনি এইসব বাণী মুক্তার মত গােটা গােটা হরফে লিখে রেখে গেছেন।

পুরাে খাতাটাই হয়তাে ভরে ফেলার ইচ্ছা ছিল। সময় পাননি। মাত্র চার দিনের নােটিসে তাঁকে পৃথিবী ছাড়তে হল। জ্বর হল। জ্বরের চতুর্থ দিনে বিস্ময় এবং দুঃখ নিয়ে তাঁকে বিদায় নিতে হল। আমাকে হতাশ গলায় বললেন, আসল কথা তােকে কিছুই বলা হল না। অল্প কিছু লিখেছি—এতে কিছুই হবে না। তিনি আঠারাে পৃষ্টা পর্যন্ত লিখেছেন। কিছু কিছু বাণী লেখার পরও কেটে ফেলা হয়েছে, তাঁর পছন্দ হয়নি। বাণীর মধ্যেও ভেজাল আছে। এ রকম একটা ভেজাল বাণী হল:

“হে মানব সন্তান, সুখের স্বরুপ নির্ধারণের চেষ্টা কর। যে সুখের স্বরুপ জেনেছে

সে দুঃখ জেনেছে। দুঃখের বাস সুখের মাঝখানে।” এই বাণ লাল কালি দিয়ে কেটে তার নিচে বাবা লিখেছেন—ভাব অস্পষ্ট ও ধোঁয়াটে।

কলের নিচে মাথা পেতে মনে হল জগৎ সংসারে সবটাই কি অস্পষ্ট ও ধোঁয়াটে নয়? স্বপ্নকে আমরা অস্পষ্ট। বাস্তব কি স্বপ্নের চেয়েও অস্পষ্ট নয়?

শুধু মাথা ভেজানাের জন্যে গিয়েছিলাম, পুরাে শরীর ভিজিয়ে ফেললাম। আরাম লাগছে। একটু শীত ভাব হচ্ছে—আরামদায়ক শীত ভাব। অর্থাৎ আমি সুখ পাচ্ছি। এই সুখের স্বরুপ জানলেই দুঃখ কি তা জেনে ফেলব। ভেজাল বাণী তাই বলেছে। চোখ বন্ধ করে কলের নিচে মাথা পেতে আছি। সারাদিন এভাবে বসে থাকলে কেমন লাগবে। চোখ বন্ধ থাকায় বৃষ্টির মত লাগছে। মনে হচ্ছে আষাঢ় মাসের মুষল বর্ষণে গা পেতে আছি। 

মেসের ঠিকা ঝি ময়নার মা’র কথা কানে না এলে কল্পনা আরাে ফেনানাে যেত। ময়নার মা চলে এসেছে। সে কথা না বলে এক মুহুর্ত থাকতে পারে না। আশেপাশে কেউ নেই বলে কথা বলছে বাসনগুলির সঙ্গে। মানুষের সঙ্গে কথা বললে তেমন কৌতুহলী হতাম না। বাসন কোসনের সঙ্গে কথা বলছে বলেই কৌতুহলী হয়ে শুনতে ইচ্ছা হচ্ছে। মানুষ শুধু যে প্রাণী জগতের সঙ্গেই সম্পর্ক স্থাপন করতে চায় তাই না, জড় জগতের সঙ্গেও চায়।

ময়নার মা চাপা গলায় গভীর বেদনার সঙ্গে বলছে, চেপ্টা থালা। আমিও চেপ্টা, তুইও চেপ্টা। আমার চেপ্টা কপাল, তরও চেপ্টা কপাল। কান্দাভাঙা ডেকচি ।

বাকিটা পড়তে চাইলে নিচের লিংক থেকে ডাউনলোড করে ফেলুন বইটির পিডিএফ!

দরজার ওপাশে PDF Download

পাশের লিংকে ক্লিক করে ডাউনলোড করে নিন Dorjar Opashe pdf বইটি।–> ডাউনলোড বই

Humayun Ahmed এর Himu Series এর ২য় বই দরজার ওপাশে PDF ডাউনলোড  করতে কোনো সমস্যা হলে কমেন্টে অবশ্যই জানাবেন। হুমায়ূন আহমেদ এর অন্যান্য সকল বই বা অন্য কোনো বই ডাউনলোড করতে চাইলে আমাদের সাইটে প্রতিদিন ভিজিট করুন এবং যেকোনো সমস্যা বা নিয়মিত বইয়ের আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক এবং ফলো করে করে সাথে থাকুন।

আপনার জন্য আরো কিছু- 

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Scroll to Top