Ami Mrinalini Noi – আমি মৃণালিনী নই PDF Download

Ami Mrinalini Noi – আমি মৃণালিনী নই PDF Download – আমাদের এখান থেকে আমি মৃণালিনী নই উপন্যাস pdf download করে নিতে পারবেন।  নিচেই বইটির পিডিএফ ডাউনলোড লিংক পেয়ে যাবেন

আমি মৃণালিনী নই PDF Book সম্পর্কে আরোও কিছু তথ্যঃ

বইয়ের নাম আমি মৃণালিনী নই
লেখকের নাম হরিশংকর জলদাস
উইকিপিডিয়ায় লেখক সম্পর্কে
টাইপ পিডিএফ
ভাষা বাংলা

Ami Mrinalini Noi PDF এর কিছু অংশ- ১

মুন্সেফবাড়িতে বিশাল আয়ােজন। এলাহিকাণ্ড যাকে বলে। নানান পদের তরকারি। খাওয়াদাওয়া শেষে নারীমহলে অনেক গল্পগুজব করলাম। ফেরার সময় হলাে। রবিবাবু তাড়া পাঠাল, দেরি হয়ে যাচ্ছে। শান্তিনিকেতনে পৌছাতে অনেক সময় লেগে যাবে। তাড়াতাড়ি দাওয়া থেকে নামতে গিয়ে পা পিছলে গেল আমার। উপুড় হয়ে পড়ে গেলাম আমি। পড়ে যাওয়া পর্যন্ত মনে ছিল আমার। পরবর্তী সময়ের কোনাে কথাই মনে নেই। উপুড় হয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি জ্ঞান। হারিয়েছিলাম। আমার যখন জ্ঞান ফিরল, আমি তখন শান্তিনিকেতনে। রবিবাবুর কাছে। শুনলাম—অনেক কষ্টে আমাকে এখানে আনা হয়েছে। আমার প্রচুর রক্তস্রাব হচ্ছে। রবিবাবু নিজেই চিকিৎসা করছে আমার। তার চিকিৎসায় সামান্য সুস্থ বােধ করলে রথীকে কাছে ডাকলাম একদিন।

বালিশের তলা থেকে লেখার খাতাটা বের করে তাকে দেখিয়ে বললাম, এখানে আমার একটি লেখা আছে। অল্প অল্প করে লিখেছি। যদি আমার কিছু হয়, রক্ষা করাে খাতাটি। আর যদি আমাকে কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হয়, খাতাটি সঙ্গে নিয়ে যেয়ে তুমি। কেউ যাতে টের না পায়।’ রথী নীরবে মাথা নাড়ল। ও আমি আবার বললাম, আমার বালিশের নিচে রাখলাম খাতাটি। দেখে রাখাে।’ শান্তিনিকেতনে আমার অসুখ ভালাে হলাে না। দিন দিন আমার অবস্থা খারাপের দিকে গেল। রবিবাবু ঠিক করল, আমাকে কলকাতা নিয়ে যাবে। সেই মােতাবেক আমাকে কলকাতায় নিয়ে যাবার ব্যবস্থা নেওয়া হলাে।

রথী ছাড়া অন্য সন্তানরা শান্তিনিকেতনেই থেকে যাবে—এটা রবিবাবুর সিদ্ধান্ত। ওরা আমার সঙ্গে আসুক—আমি মনেপ্রাণে চাইলাম। আকুতিভরা অনুনয় পাঠালাম তার কাছে। কিন্তু সে সম্মত হলাে না। রথী আমাকে পরম যত্নে বােলপুর স্টেশনে আনল, সঙ্গে দ্বিপেন্দ্রনাথও ছিল। রবিবাবু তখন কলকাতায়। রথী আর দ্বিপেন্দ্র আমাকে নিয়ে রওনা দিল, রেলে।

Ami Mrinalini Noi PDF এর কিছু অংশ- ২

শান্তিনিকেতন থেকে এই-ই আমার শেষ যাওয়া। মনে হতে লাগল—আমি আর কখনাে শান্তিনিকেতনে ফিরে আসতে পারব না। আমার খুব করে মনে পড়তে লাগল গাছদের কথা, ছােট ছােট বিদ্যার্থীদের কথা,  ছায়াঢাকা মেঠো পথগুলাের কথা, অধ্যাপকবৃন্দের কথা। আমার হঠাৎ করে মনে পড়ল ভাদ্রের সেই বৃষ্টি ঝরা সকালের কথা। রবিবাবুর সেদিনের প্রণয় সম্ভাষণের কথা।

মাঝেমধ্যে অসুখের প্রকোপে আমি কাতর হয়ে পড়ছি। একটা ঘাের আমাকে ঘিরে ধরছে। আমি বাহ্যজ্ঞানশূন্য হয়ে পড়ি। কিছুক্ষণ পর ঘাের কেটে যায়। চোখ খুলি। দেখি, রথী একদৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি দয়ার্দু চোখে তার দিকে তাকাই। একধরনের আতঙ্ক তার চোখেমুখে । শুয়ে শুয়েই সময় পার করে যাচ্ছি আমি। ওই অবস্থাতেই আমি রথীর ডান হাতটা নিজের দিকে টেনে নিই। কোমল কণ্ঠে বলি, ‘ভয় পেয়ে , বাবা।’

রথী আমার কথার কোনাে জবাব দেয় না। আমার হাতের ওপর তার বাঁ হাতটা রাখে। বাইরে চোখ তার। তার চোখের সামনে দিয়ে কত তালগাছ, বুনাে খেজুরের ঝােপ, কত বাঁশঝাড়ঘেরা গ্রাম দ্রুত পেরিয়ে যাচ্ছে। একসময় উচ্ছসিত গলায় সে বলে ওঠে, ‘দেখাে দেখাে মা, মাঠের মাঝখানে একটা পুকুর। অসংখ্য পদ্মফুলে পুকুরের সব জল ঢেকে গেছে।’ আমার মাথার নিচে হাত দিয়ে মাথা উঁচু করে পদ্মফুলের পুকুরটি দেখাতে ব্যর্থ হয়ে ওঠে রথী।

আমি চাপা কণ্ঠে রথীকে জিজ্ঞেস করি, ‘খাতাটি এনেছ তাে, রথী?

রথী ওপরে-নিচে মাথা নেড়ে সম্মতি জানায়। আমি আশ্বস্ত হই। ভাবি, কলকাতায় পৌছে একটু সুস্থ হলেই আমার এই রেলভ্রমণের কথাগুলাে লিখব।

আশ্বিনের শেষ শনিবারে আমি জোড়াসাঁকোর বাড়িতে পৌছাই। আমাকে রাখা হয় লাল বাড়ির দোতলায়। এটা রবিবাবুর নিজস্ব বাড়ি। দোতলার লম্বা ঘরটিকে আলমারির পার্টিশন দিয়ে তিনটি ঘরে পরিণত করা হয়েছে। সবচেয়ে শেষের ঘরে আমার ঠাই হয়। ঘরটি নিরিবিলি। কিন্তু হলে কী হবে, ও ঘরে হাওয়া খেলে না। লাল বাড়িটির সামনে গগনেন্দ্রনাথদের বিরাট অট্টালিকা মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে। ঘরে কোনাে বৈদ্যুতিক পাখা নেই।

তালপাতার পাখার বাতাসে কতটুকুই বা গায়ের। যন্ত্রণা কাটে! | আমার অসুস্থতা সত্ত্বেও রবিবাবুর কর্মব্যস্ততা কমে না। যেদিন পৌছালাম ঠিক তার পরদিন সে গেল মজুমদার লাইব্রেরিতে আর বালিগঞ্জে। তার পরদিন গেল বৌবাজারে। ওসব জায়গা থেকে ফিরেটিরে আমার পাশে বসল,

Ami Mrinalini Noi pdf download Link

পাশের লিংকে ক্লিক করে ডাউনলোড করে নিন বইটি।–> ❤️ডাউনলোড বই❤️

 

আশাকরি উপরের লিংক থেকে বই পিডিএফ ডাউনলোড করে নিয়েছেন। ডাউনলোড করতে কোনো সমস্যা হলে কমেন্টে অবশ্যই জানাবেন। অন্য কোনো বই ডাউনলোড করতে চাইলে আমাদের সাইটে প্রতিদিন ভিজিট করুন এবং যেকোনো সমস্যা বা নিয়মিত বইয়ের আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক এবং ফলো করে করে সাথে থাকুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Scroll to Top