সে এখানে নেই pdf download – সাদাত হোসাইন

সে এখানে নেই pdf download – আমদের এখান থেকে লেখক সাদাত হোসাইন এর লেখা সে এখানে নেই বই PDF (Se akhane nei PDF Download) করে নিতে পারবেন সহজে।

সে এখানে নেই PDF(Se akhane nei) Book সম্পর্কে আরোও কিছু তথ্যঃ

বইয়ের নাম সে এখানে নেই
লেখকের নাম সাদাত হোসাইন
উইকিপিডিয়ায় লেখক সম্পর্কে
টাইপ পিডিএফ
ভাষা বাংলা
বইয়ের ধরণ উপন্যাস

সে এখানে নেই PDF এর কিছু অংশ- ১

মে মাসের সন্ধ্যা।

আকাশ কালাে করে মেঘ করেছে। এই সময়ে জহিরের দাঁড়িয়ে থাকার কথা ছিল কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের কাছাকাছি কোথাও। সমুদ্র নিশ্চয়ই এতােক্ষণে উত্তাল হয়ে উঠেছে। ঝড়াে হাওয়া বইছে। ভারী মেঘ নেমে এসেছে দূর দিগন্তের বিক্ষুব্ধ জলরাশির বুকে। সেখানে সন্ধ্যার মুখভার আকাশ অদ্ভুত রহস্যময় আভা ছড়াচ্ছে। হাতের ক্যামেরাটার। দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল সে। এইসব অসাধারণ দৃশ্য আজ আর তার দেখা হবে না। ছবিও তোলা হবে না। কারণ আর কিছুক্ষণ বাদেই তাকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করতে হবে। ঢাকা থেকে ভয়াবহ দুঃসংবাদ এসেছে। (ভলী অসুস্থ। সে জহিরের বাপত্র।

মাসখানেক হয় লন্ডন থেকে দেশে ফিরেছে সে। জহির যখন সপ্তাহখানেক আগে ঢাকা থেকে অফিসের কাজে কক্সবাজার এসেছিল, তখনও সে দিব্যি সুস্থই ছিল। হঠাৎ কী এমন হলাে যে তাকে হাসপাতালে অবধি ভর্তি করাতে হয়েছে! নাকি খুব খারাপ কিছু? সাধারণত দূরে থাকা কাছের মানুষকে আমরা চট করে খুব খারাপ সংবাদটা দিতে চাই না। বরং এটা সেটা বলে। আকারে ইঙ্গিতে দেই। কিংবা ছােটখাট অসুখবিসুখের কথা বলে দুর থেকে কাছে ডেকে এনে। তারপর রয়ে-সয়ে আসল ঘটনা বলি।

আচ্ছা, কােসীর কি তেমন কিছুই হয়েছে? খুব খারাপ কিছু? কিন্তু সেই খারাপ কিছুটা কী? সে কি মারা গেছে?

অসম্ভব! এই অবধি ভাবতে পারছে না জহির। তার মনে হচ্ছে ভয়ানক দুশ্চিন্তায় মাথার ভেতরটা বুনন করে ঘুরতে। কানের পাশ দিয়ে নেমে আসছে উষ্ণ ঘামের স্রোত। এখন বাজে রাত আটটা। সে বসে আছে হােটেল রুমে। দেয়ালে টানানাে দড়ির কাঁটাটা দ্রুত ঘুরছে। জানালার বাইরে ঝাউগাছের লম্বা ডগাটা যেন পাখির মতাে ডানা ঝাপটাচ্ছে।

দুর (থকে একটা গা ছমছমে শোঁ শোঁ শব্দ (৬সে আসছে। জহির অস্থির হয়ে রেন্ট-এ-কারের নম্বরটাতে আরও একবার ফোন করল। কেউ ধরল না। এর আগে পরপর দুবার মুখের ওপর না বলে দিয়েছেন ম্যানেজার। এই দুর্যোপের রাতে তারা কিছুতেই গাড়ি ভাড়া দেবেন না। কোনাে ড্রাইভারও এই অবস্থায় গাড়ি চালাতে ইচ্ছুক নন।

এমনকি ঢাকাগামী বাসগুলােও তাদের যাত্রা স্থগিত করেছে। বিমানের সবগুলাে ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু জহিরকে যে ঢাকা ফিরতেই হবে! প্রশ্ন হচ্ছে, কীভাবে ফিরবে সে? আশিক ফোন। করেছিল সন্ধ্যার খানিক আগে। সে জহিরের ইউনিদ্ভার্সিটির বন্ধু। সম্পর্কে জেসীর খালাতো ভাই।

ফোন করেই সে হড়বড় করে বলল, ‘জহির, ভােকে ঢাকায় আসতে হবে। অজিই, এক্ষুনি।

“আজই? ঢাকায়?’ ভীষণ অবাক হলাে জহির। “হ্যাঁ। এক্ষুনি।”

আশিকের কন্যার কিছুই বুঝল না জহির। সে ভ্রু কুঁচকে বলল, ‘কী হয়েছে আশিক? কোনাে সমস্যা?’

“হ, সমস্যা।

“কী সমস্যা? হঠাৎই কেমন কু ডাক ডাকতে শুরু করল জহিরের মনে। সে উৎকণ্ঠিত গলায় বলল, ‘কী হয়েছে? সব ঠিকঠাকতাে?”

উত্তরটা দেওয়ার আগে যেন খানিক ভাবল আশিক। সময়ও নিল বেশ কিছুটা। তারপর আচমকা দম আটকানো গলায় বলল, ‘(জসীর শরীরটা খুব খারাপ। গত পরশু থেকে সে খুব অসুস্থ। তােকে এক্ষুনি ঢাকায় আসতে হবে।’

“জেসী অসুস্থ’ কথাটা শুনেই বুকটা ধ্বক করে উঠল জহিরের। কী হয়েছে তার? গুরুতর কিছু নয়তাে? না হলে এভাবে ফোন করে ঠিক এই মুহূর্তেই জহিরকে ঢাকায় যেতে বলছে কেন আশিকঃ আশিকের কাছ থেকে অবশ্য বেশি কিছু বের করা গেল না। সে ফোন রাখার আগে বলল, ‘তুই এক্ষুনি ঢাকায় চলে আয়। এক্ষুনি। জেসী হাসপাতালে ভর্তি। তার ভয়াবহ বিপদ। তুই তাড়াতাড়ি ঢাকায় আয়। তােকে এক্ষুনি দরকার…।

সে এখানে নেই PDF এর কিছু অংশ- ২

কথাটা বলেই চট করে ফোন কেটে দিল সে। খুবই অদ্ভুত আচরণ। জহিরের কেন যেন মনে হচ্ছিল আশিকের গলা কাঁপছে। কী হয়েছে জেসীর? বিষয়টা স্পষ্ট জানতে না পারলেও ঢাকায় যে বড় ধরনের কোনাে সমস্যাই হয়েছে সেটা সে বেশ অাঁচ করতে পারছিল। বিষয়টা নিশ্চিত হওয়ার জন্য আশিকের মা রেণু আন্টিকে ফোন করলে জহির। কিন্তু তার ফোন বন্ধ। ফোন বন্ধ জেসীরও।

কী আশ্চর্য! একসাথে সবার ফোন অফ কেন? জেসীর ফেনি অবশ্য এমনিতেই বেশিরভাগ সময় বন্ধ থাকে। ফোনে খুব একটা সক্রিয় নয় সে। এ কারণ সচরাচর তাকে পাওয়াও যায় না। জহির ফোন করল তার বড় আপাকে। বড় আপার কাছে এই খবর থাকার কথা। কিন্তু তিনি ফোন ধরলেন । ফোন ধরলেন না দুলাভাইও।

বিষয়টা খুবই অস্বস্তিকর লাগল জহিরের কাছে। সে বেশ কিছুক্ষণ চেষ্টা করেও কাউকেই রিচ করতে পারল না।

সেই থেকে দুশ্চিন্তায় অস্থির হয়ে আছে জহির। যে করেই হােক আজ রাতেই তাকে ঢাকায় ফিরতে হবে। নিশ্চয়ই খারাপ কিছু ঘটেছে জেসীর। সমস্যা হচ্ছে, আজকে আবহাওয়ার যা অবস্থা, তাতে এই রাতে সে ঢাকায় ফিরবে কী করে? একবার ভাবল, সকাল অবধি অপেক্ষা করবে। কিন্তু জোসীর ভাবনা তাকে আর এক মুহূর্তের জন্যও স্বস্তি দিল না। স্থির হতে দিল না।

সে এখানে নেই PDF এর কিছু অংশ- ৩

শেষ অবধি অবশ্য গাড়ির ব্যবস্থা একটা হলাে। ব্যবস্থা করেছেন জহিরের কক্সবাজার অফিস প্রতিনিধি আবিদুল ইসলাম। তিনি ফোন করে বললেন, ‘স্যার দুটো সংবাদ আছে। একটা ভালাে, অন্যটা খারাপ। আগে কোনটা বলব?”

এই ধরনের সস্থা রসিকতা শােনার মানসিকতা এই মুহূর্তে জহিরের নেই। তারপরও সে শুনল। যতটা সম্ভব মাথা ঠান্ডা রেখে শান্ত গলায় বলল, ‘জি, আগে ভালােটাই বলুন।

“গাড়ির ব্যবস্থা হয়েছে। একটু পুরনাে গাড়ি। দেখতে শুনতে খুব একটা ভালাে না হলেও ইঞ্জিন ভালো। দম আছে।’

“এবার খারাপটা বলুন’। “গাড়ির ড্রাইভার নেই।’ ড্রাইভার নেই মানে? “মানে…। অনেক চেষ্টা করেও কোনাে ড্রাইভার ম্যানেজ করতে পারিনি স্যার। এখন কী করব বুঝতে পারছি না।’

আবিদুল ইসলামের কথা শুনে জহির চুপসে গেলাে। ড্রাইভার ছাড়া গাড়ি পেয়ে লাভ কী? এই রাতে এতোটা পথতাে আর সে নিজে নিজে গাড়ি চালিয়ে যেতে পারবে না! আবিদুল ইসলাম বললেন, এখন কী করব স্যার? 

বাকিটা পড়তে চাইলে বইঘর থেকে বইটি কিনে নিন এখানে ক্লিক করে!

সে এখানে নেই PDF Download লিংক

বইটির পিডিএফ এখনো বাহির হয়নি। বাহির হলে আমাদের সাইটে পেয়ে যাবেন। তবে বই ঘর থেকে মাত্র ১০০ টাকায় বইটি ডাউনলোড করে নিতে পারবনে। কিনে নিন এখানে ক্লিক করে! 

সাদাত হোসাইন এর অন্যান্য সকল বই বা অন্য কোনো বই ডাউনলোড করতে চাইলে আমাদের সাইটে প্রতিদিন ভিজিট করুন এবং যেকোনো সমস্যা বা নিয়মিত বইয়ের আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক এবং ফলো করে করে সাথে থাকুন।

আপনার জন্য আরো কিছু- 

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Scroll to Top